কারাগারের গেটে স্ত্রী ও সন্তানের নিথর দেহ শেষবারের মতো ছুঁয়ে দেখলেন সাদ্দাম।

ডেস্ক রিপোর্ট::বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম ৫ বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীকে। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে ৯ মাস আগে জন্ম নেয় সেহজাদ হোসেন নাজিফ। জন্মের পর থেকে সন্তানের মুখ দেখতে পারেননি সাদ্দাম। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হয়ে তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। স্বামীকে মুক্ত করতে না পারার হতাশা শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে স্বর্ণালী ও শিশু সন্তান নাজিফের জীবন।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে স্ত্রী ও সন্তানের নিথর দেহ শেষবারের মতো ছুঁয়ে দেখলেন সাদ্দাম। একমাত্র সন্তানের মরদেহ বুকে জড়িয়ে এ সময় তিনি হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন।

স্বর্ণালীর ভাই শুভ হাওলাদার জানান, তাঁর বোনের স্বামী সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে মৌখিকভাবে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনকে অবহিত করার পর জানানো হয়, সাদ্দাম যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রশাসনের অনুমোদন নিতে হবে। সময় স্বল্পতার কারণে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শেষবারের মতো জেলগেটে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ সাদ্দামকে দেখানো হবে। এরপর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে যোগাযোগ করে শনিবার সন্ধ্যায় স্বর্ণালী ও নাজিফের মরদেহ সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

সাদ্দামের স্বজনরা জানান, হাসি-খুশির একটি পরিবার মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল। এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া সত্যিই কষ্টকর। একমাত্র সন্তানকে জীবিত অবস্থায় কোলে নিতে না পারার মতো দুঃখ আর নেই। প্রথমবার কোলে নিলেন, তাও মৃত অবস্থায়; সেই সাথে স্ত্রীকে হারানোর বেদনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা