রোজায় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সচেতনতার পরামর্শ

ডেস্ক রিপোর্ট ;;পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার ফলে অনেকেই শারীরিক দুর্বলতা, পানিশূন্যতা, গ্যাস্ট্রিক, মাথাব্যথা ও রক্তচাপের সমস্যায় ভুগে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়ম মেনে চললে রোজায় স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, সেহরি বাদ দেওয়া একেবারেই ঠিক নয়। সেহরিতে ভাত বা রুটি, ডাল, ডিম, মাছ, শাকসবজি ও দুধ বা দইয়ের মতো সুষম খাবার রাখা উচিত। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। একবারে বেশি পানি না খেয়ে ধীরে ধীরে পান করাই ভালো। চা ও কফি কম খাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ এসব পানীয় শরীর থেকে দ্রুত পানি বের করে দেয়।
ইফতারে অতিভোজনের প্রবণতা থেকেও বিরত থাকতে হবে। সারাদিন না খেয়ে থাকার পর একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করলে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করে ধীরে ধীরে অন্যান্য খাবার গ্রহণ করাই উত্তম।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে। রোজা রাখার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং ওষুধের সময়সূচি সমন্বয় করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম, ইফতারের পর হালকা হাঁটা এবং অতিরিক্ত রোদ ও কষ্টকর কাজ এড়িয়ে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদি অতিরিক্ত মাথা ঘোরা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, বুকে ব্যথা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতা ও সঠিক নিয়ম মেনে চললে রোজা পালন যেমন ইবাদতের অংশ, তেমনি এটি শারীরিক সুস্থতার জন্যও উপকারী হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা