ডেস্ক রিপোর্ট ::সিলেটে রোটাপ্লাস্ট ইন্টারন্যাশনালের নবম মিশনের সফল সমাপ্তি উপলক্ষে সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ মিশনের আওতায় সিলেট বিভাগের ৫৪ জন রোগী—যাদের অধিকাংশই শিশু—বিনামূল্যে ঠোঁট ও তালু কাটা, মুখমণ্ডলের জন্মগত বিকৃতি এবং দগ্ধতার জন্য জীবন পরিবর্তনকারী পুনর্গঠনমূলক সার্জারি সেবা পেয়েছেন।
১০ দিনব্যাপী এই মানবিক মিশনটি শেভরন বাংলাদেশের আংশিক সহায়তায় এবং রোটারি ক্লাব অব জলালাবাদ ও সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (SWMCH)-এর সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হয়। এবারের মিশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ২৪ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। স্বেচ্ছাসেবক দলে ছিলেন পুনর্গঠনমূলক প্লাস্টিক সার্জন, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, পেডিয়াট্রিশিয়ান, স্পিচ প্যাথোলজিস্ট, অর্থোডন্টিস্ট ও অভিজ্ঞ নার্সরা।

সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর (ডা.) মো. ইসমাইল পাটোয়ারী, রোটাপ্লাস্টের মিশন ডিরেক্টর মি. টেড অ্যালেক্স, মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. টড ফার্নওর্থ, রোটাপ্লাস্ট মিশন ২০২৬-এর চেয়ারম্যান ও রোটারি ক্লাব অব জলালাবাদের সদস্য রোটারিয়ান ইঞ্জি. শোয়েব আহমেদ মাতিন, ক্লাবটির সভাপতি রোটারিয়ান সুব্রত চক্রবর্তী (জুয়েল), শেভরন বাংলাদেশের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর মি. মুহাম্মদ ইমরুল কবির, হোলি সিলেট হোল্ডিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ফজলুর রহিম কাইসার এবং সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিরেক্টর ও উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ডা. সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন (অব.)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর (ডা.) মো. ইসমাইল পাটোয়ারী রোটাপ্লাস্ট ইন্টারন্যাশনাল, শেভরন বাংলাদেশ, রোটারি ক্লাব অব জলালাবাদ ও সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই মানবিক উদ্যোগের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে শেভরন বাংলাদেশের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর মি. মুহাম্মদ ইমরুল কবির বলেন,“এই পুনর্গঠনমূলক সার্জারিগুলো সত্যিকার অর্থেই মানুষের জীবন বদলে দেয়। এগুলো রোগীদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং তাদের পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে সহায়তা করে। শেভরন বাংলাদেশ হিসেবে আমরা আমাদের সামাজিক বিনিয়োগ কর্মসূচির মাধ্যমে এমন জীবন-পরিবর্তনকারী উদ্যোগকে সমর্থন করতে গর্ববোধ করি। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন আমাদের সামাজিক বিনিয়োগের প্রধান ক্ষেত্র, যেখানে আমরা ইতোমধ্যে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছি।”
রোটাপ্লাস্টের পক্ষ থেকে সিলেট ২০২৬ মিশনের মিশন ডিরেক্টর মি. টেড অ্যালেক্স বলেন,“আমি অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞ—তারা তাদের সন্তানদের নিয়ে এসে রোটাপ্লাস্ট দলের ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।”
রোটারি ক্লাব অব স্যান ফ্রান্সিসকোর একটি প্রকল্প হিসেবে রোটাপ্লাস্ট ইন্টারন্যাশনাল একটি অলাভজনক মানবিক সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহুবিভাগীয় চিকিৎসক দল পাঠিয়ে ঠোঁট ও তালু কাটা শিশুদের পুনর্গঠনমূলক সার্জারি, চিকিৎসা সেবা এবং পরবর্তী যত্ন নিশ্চিত করে। পাশাপাশি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব জন্মগত সমস্যার প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে একটি সার্জিক্যাল মিশনের মাধ্যমে শেভরন বাংলাদেশ ও রোটাপ্লাস্টের যৌথ সহযোগিতা শুরু হয়। এরপর ২০১৪, ২০১৫, ২০১৯, ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে সিলেটে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের মিশন পরিচালিত হচ্ছে।
শেভরন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সমন্বিত জ্বালানি কোম্পানি, যা জ্বালানি খাতের প্রায় সব ক্ষেত্রে কার্যক্রম পরিচালনা করে। শেভরন বাংলাদেশ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনা করছে এবং দেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদক হিসেবে মোট দেশীয় উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ ও কনডেনসেট উৎপাদনের ৮০ শতাংশের বেশি সরবরাহ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অবদান রেখে চলেছে।
Leave a Reply