আজ ভোটগ্রহণ।। হবিগঞ্জ-১ আসনে নীরবতার আড়ালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা::দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ। প্রচার-প্রচারণা শেষ হওয়ায় নির্বাচনী এলাকায় আনুষ্ঠানিক নীরবতা শেষে চলছে ভোট গ্রহণ। তবে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে ভোটারদের চূড়ান্ত অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন মহলের পর্যবেক্ষণ বলছে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই বোঝা যাবে এই আসনের ভোটের ফলাফল কোন দিকে ঝুঁকছে।
নবীগঞ্জ উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন এবং বাহুবল উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬২ হাজার ৬৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৩ হাজার ০৪৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৪৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৭৭টি।
 নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রচারপর্ব তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ থাকলেও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা-পর্যালোচনা ছিল সক্রিয়। চায়ের দোকান, বাজার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রার্থীকে ঘিরে সমর্থন ও বিশ্লেষণ দেখা গেছে। তবে অনেক ভোটারই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করছেন না। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের নীরবতা অনেক সময় ফলাফলে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতে পারে।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী, কাজী তোয়ায়েল আহমেদ এবং মোহাম্মদ বদরুর রেজা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সাংগঠনিক শক্তি, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন এবং তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ—এসব বিষয় ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে প্রথমবারের ভোটার ও প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট নিয়ে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব ভোটারদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের হারই অনেকাংশে ফল নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া বিজয়ী হয়ে আলোচনায় আসেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে ড. রেজা কিবরিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অতীতের এসব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও বর্তমান নির্বাচনী সমীকরণে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, হবিগঞ্জ-১ আসনে ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে রয়েছে কৌতূহল ও প্রত্যাশা। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন হলে সন্ধ্যার পর ফলাফল স্পষ্ট হবে। তখনই জানা যাবে, নীরবতার আড়ালে থাকা জনমত শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে রায় দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা