ডেস্ক রিপোর্ট ::সিলেটের হজরত শাহজালাল (র.) মাজারে তৃতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এক মাস চার দিন পর শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া এ গণনা সন্ধ্যায় শেষ হয়।
গণনা শেষে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ, ১ ভরি ২ আনা রুপা এবং ১৯ দেশের বিভিন্ন মুদ্রা পাওয়া যায়।
সন্ধ্যায় গণনা শেষে প্রাপ্ত অর্থ ও সম্পদের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানান সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি জানান, পাওয়া বিদেশি মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ পাউন্ড, ভারতীয় রুপি, পাকিস্তানি রুপি, সৌদি রিয়াল, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, মার্কিন ডলার, নেপালি রুপি, ওমানি বায়সা, ইউএই দিরহাম, ইরাকি দিনার, তুর্কি লিরা, ভিয়েতনামি ডং, জাপানি ইয়েন, কাতারি রিয়াল, লেবানিজ ও মিসরীয় পাউন্ড, ইউরো, বাহরাইনি পয়সা ও কানাডিয়ান ডলার।
এ ছাড়া ভক্তদের নজরানা হিসেবে মাজারে বেশ কিছু গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগিও জমা পড়েছে।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি দ্রুত এ নীতিমালা চূড়ান্ত করবে। এরপর সেই নীতিমালা অনুযায়ী দানবাক্সের টাকা গণনা ও মাজারের তহবিল পরিচালনা করা হবে।
গণনার সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে মাজারের তিনটি ডেগ ও তিনটি বড় দানবাক্সের সিলগালা খোলা হয়। পরে প্রশাসনিক তদারকিতে অন্তত ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী টাকা গণনার কাজে অংশ নেন।
এর আগে মাজারের আয়-ব্যয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চলতি বছরের ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম দানবাক্স সিলগালা ও নতুন দানবাক্স স্থাপনের নির্দেশ দেন। এ নিয়ে মাজার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়।
পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের মধ্যস্থতায় ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে দুই দফায় দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়। ২২ জুন প্রথম দফায় ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা এবং ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়।
Leave a Reply