সিলেটে ট্রি’পল মা’র্ডার: চুরি করতে গিয়েই তিনজনকে হ’ত্যা করেছি —আদালতে বাবুল

ডেস্ক রিপোর্ট ::সিলেট নগরীর রায়নগর রাজবাড়ী এলাকায় চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার গ্রেপ্তার আসামি রং মিস্ত্রি বাবুল মিয়া আদালতে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বয়ান দিয়েছেন। পুলিশের কাছে গৃহকর্মীর সঙ্গে প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে হ’ত্যার কথা বললেও আদালতের জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেছেন, বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড়ে চুরি করতে গিয়েই তাঁকে ধরা পড়ার ভয়ে একাই তিনজনকে খু’ন করেছেন।

বাবুলের এই বক্তব্যের সঙ্গে আগের তথ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি থাকায় ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে এবং তৃতীয় কোনো পক্ষের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে দীর্ঘ জবানবন্দি প্রদানকালে বাবুল মিয়া জানান, প্রেম বা শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি তাঁর কথিত প্রেম ও শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি তাঁর নয়— বরং ভাড়ার জন্য টাকা জোগাড় করতে ওই বাসায় চুরি করতে গিয়েছিলেন। সেখানে গৃহপরিচারিকা তাহমিনা বেগম তাঁকে দেখে ফেললে প্রথমে তাঁকে ছু’রিকাঘাতে আহত করেন। তাহমিনার চিৎকার শুনে রান্নাঘর থেকে ছুটে আসা গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগমকেও বারবার ছু’রিকাঘাত করা হয়, যার আঘাত লাগে তাঁর গলায়। এরপর বাসার মালিক আব্দুস সাত্তারকেও একাধিকবার ছু’রি মেরে হ’ত্যা করেন বাবুল।

খুনের পর শরীরের রক্ত পরিষ্কার করতে বাথরুমে যান তিনি। সেখান থেকে বেরিয়ে একটি কক্ষে টাকা খোঁজেন এবং ৫০০ টাকার নোটে মোট ১৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন। এ সময় বাসার মোবাইল ফোন বেজে ওঠে এবং মূল দরজার পাশে কেউ কথা বলার শব্দে বারান্দা দিয়ে দ্রুত নিচে নেমে পালিয়ে যান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।আটকের পর প্রথমে গৃহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং পরে গালমন্দের কারণে ক্ষোভ থেকে হত্যার কথা বলেছিলেন বাবুল। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কমিশনারও কথা বলেছেন। কিন্তু আদালতে তিনি এই চিত্র পুরোপুরি উল্টে দিয়েছেন। চার দিনের রিমান্ড শেষে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হন।

সন্ধ্যায় বিচারকের কামরায় নিয়ে রাত ৯টায় জবানবন্দি গ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং পরে তাঁকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।দাবি করেছিলেন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা। তবে আসামির দেওয়া তথ্যের সত্যতা এখনো যাচাই করা হচ্ছে, এবং ঘটনায় তৃতীয় কোনো পক্ষ জড়িত ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তদন্তের বাইরে নেই বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, গত ১২ আগস্ট সকালে নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা নিকুঞ্জ ভিলার দ্বিতীয় তলা থেকে বিয়ানীবাজার উপজেলার আখাখাজনা এলাকার মৃ’ত আবরু মিয়ার ছেলে মো. আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং ছাতকের বাসিন্দা গৃহপরিচারিকা তাহমিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন বিকেলেই রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনির বাসিন্দা বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়। বাসায় রঙের কাজ করার সুবাদে সেখানে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলে জানা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা