স্টাফ রিপোর্টার::হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের মোতাজিলপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে সুয়েব আহমেদ (২৫) ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে গিয়ে দালালের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। উন্নত জীবনের আশায় সৌদি আরব গিয়ে তিনি তিন মাস ধরে বন্দীশালায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে ২০২৫ ইং তারিখে একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী আদম ব্যাপারী (দালাল) সুজাত মিয়ার প্রলোভনে পড়ে সুয়েব আহমেদ সৌদি আরব পাড়ি জমান। উন্নত চাকরি ও আকামার প্রতিশ্রুতিতে পরিবার সহায় সম্বল বিক্রি ও ধারদেনা করে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা প্রদান করে তিনি বিদেশে যান। কিন্তু সৌদি পৌঁছে চাকরি বা আকামা না দিয়ে একটি কক্ষে বন্দী করে রাখে দালাল চক্র। সেখানে গত তিন মাস ধরে অনাহারে-অর্ধাহারে অমানবিক জীবন কাটাচ্ছেন সুয়েব।
প্রবাসে আটক থাকা সুয়েব লুকিয়ে লুকিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার অসহায় অবস্থা ও দালালদের নির্যাতনের বর্ণনা দেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে তার পরিবার নবীগঞ্জ থানায় প্রতিকার চেয়ে গত ২৩ আগস্ট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মৃত ছুরত মিয়ার ছেলে সুজাত মিয়া (৩০) ও তার ভাই মোস্তাকিম মিয়া (২৫) দীর্ঘদিন ধরে সৌদিতে অবস্থান করে দালালী ব্যবসা পরিচালনা করছে। তারা দেশ থেকে সরল-সহজ মানুষদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে উন্নত চাকরি ও ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে প্রতারণা করে আসছে। এদের সহযোগী হিসেবে কাশেম মিয়া ও রিনা বেগমের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী সুয়েব আহমেদের ছোট ভাই সাহেদ আহমেদ বলেন, আমার ভাই সুয়েবকে সৌদিতে নিয়ে তারা প্রতারণা করেছে। কোনো চাকরি বা আকামা না দিয়ে তিন মাস ধরে বন্দী করে রেখেছে। এতে সে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ভীষণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা নবীগঞ্জ থানার এসআই মেহেদী হাসান জানান, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, দালাল চক্র মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে কোটিপতি হচ্ছে। অথচ তাদের খপ্পরে পড়ে অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসছে।
হয়রানির শিকার সুয়েব আহমেদের পরিবার প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। পাশাপাশি সৌদি আরব থেকে সুয়েবকে অক্ষত অবস্থায় দ্রুত উদ্ধারের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে তারা।
Leave a Reply