-
- জাতীয়
- আজ পবিত্র শুক্রবার ও শুক্রবার পরের রাতে শবেবরাত – ফজিলত ও করণীয় আমল
- আপডেট টাইম : February, 14, 2025, 3:47 pm
- 30 বার
ডেস্ক রিপোর্ট ::এই বছর পবিত্র শুক্রবারের পরের রাতেই শবেবরাত পড়েছে, যা দ্বিগুণ বরকতের ইঙ্গিত দেয়। শুক্রবার হলো সপ্তাহের সেরা দিন, আর শবেবরাত হলো রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের রাত। এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিন ও রাত একসাথে হওয়া আমাদের জন্য বিশেষ নেয়ামত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হল শুক্রবার। এই দিনে আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে।” (মুসলিম: ৮৫৪)
২. জুমার নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন,যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু করে, অতঃপর জুমার নামাজ আদায় করতে যায়, আল্লাহ তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত গুনাহ মাফ করে দেন।” (বুখারি: ৮৬০) শুক্রবারে একটি বিশেষ মুহূর্ত থাকে, যখন আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করেন। (মুসলিম: ৮৫২)
…….
শবেবরাতের ফজিলত হলো রহমত ও গুনাহ মাফের রাত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন শাবান মাসের পনেরোতম রাতে আল্লাহ প্রথম আকাশে নেমে আসেন এবং কাবিলার বকরার পশমের চেয়েও বেশি সংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করে দেন। (তিরমিজি: ৭৩৯)
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,এই রাতে আগামী বছরের রিজিক, মৃত্যু ও অন্যান্য বিষয়ে তাকদির নির্ধারিত হয়।” (দারেমি)
শবেবরাতের রাতে গুনাহ মাফ ও নাজাতের সুযোগ থাকে। এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
এই রাতে আল্লাহ বান্দাদের ক্ষমা করে দেন, তবে মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারীদের ক্ষমা করেন না। (ইবনে মাজাহ: ১৩৯০)।
শুক্রবারের আমল:
শুক্রবারের আমল:জুমার নামাজ পড়া—গুনাহ মাফের বড় সুযোগ। এ দিনে সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা—আলো বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি
রাসুল (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উত্তম আমল। এ দিনে দোয়া কবুল হয়।
শবেবরাতের আমল
নফল নামাজ আদায় করা—২, ৪, ৬, ৮ বা ইচ্ছেমতো। তাহাজ্জুদ পড়া—গুনাহ মাফের বিশেষ সুযোগ। কুরআন তেলাওয়াত করা—আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম। তাওবা ও ইস্তিগফার করা—গুনাহ মাফ চাওয়ার শ্রেষ্ঠ রাত।পরদিন (১৫ শাবান) রোজা রাখা—রাসুল (সা.) শাবান মাসে বেশি রোজা রাখতেন। কবর জিয়ারত করা—মৃতদের জন্য দোয়া করা রাসুল (সা.)-এর সুন্নত।
বিদআত ও ভুল ধারণা:
আতশবাজি, আলোকসজ্জা করা শবেবরাতের অংশ নয়। ১০০ রাকাত নামাজ বা নির্দিষ্ট কোনো আমল বাধ্যতামূলক নয়। হালুয়া-রুটি খাওয়া ইবাদতের অংশ নয়, এটি শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক প্রথা।
যেহেতু আজ শুক্রবার, আর পরের রাতই শবেবরাত, তাই আমাদের উচিত দুপুরে জুমার নামাজ ও দোয়া, আর রাতে শবেবরাতের নফল ইবাদতে সময় কাটানো। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই বরকতময় দিন ও রাতের পূর্ণ ফজিলত লাভের তৌফিক দান করুন। আমিন।
এ জাতীয় আরো খবর..
Leave a Reply