আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের শেষ ইচ্ছা ও তাঁর মৃত্যুর শিক্ষা

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের শেষ ইচ্ছা ও তাঁর মৃত্যুর শিক্ষা::

বাদশা আলেকজান্ডার, যিনি ইতিহাসে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট নামে পরিচিত, মাত্র ৩২ বছর বয়সে খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩ সালে ব্যাবিলনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও গভীর দার্শনিক কথার উল্লেখ পাওয়া যায়, যদিও এগুলোর ঐতিহাসিক সত্যতা নিশ্চিত নয়।

আলেকজান্ডারের তিনটি শেষ ইচ্ছা:

একটি কিংবদন্তি অনুসারে, মৃত্যুর আগে তিনি তিনটি শেষ ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন—

1. তার কফিন বহন করবেন চিকিৎসকরা।

এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, মৃত্যু অনিবার্য, এবং কোনো চিকিৎসকই একে রোধ করতে পারেন না।

2. তার অর্জিত সমস্ত সম্পদ পথের ওপর ছড়িয়ে রাখতে হবে।

এটি বোঝায় যে পার্থিব সম্পদ মৃত্যুর পর অর্থহীন, তাই মানুষের উচিত শুধু ধন-সম্পদের পিছনে না ছুটে প্রকৃত সুখ খোঁজা।

3. তার দুটি হাত কফিনের বাইরে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

এটি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, মানুষ শূন্য হাতে আসে এবং শূন্য হাতেই চলে যায়।
তার মৃত্যুর সময়কার কথোপকথন:

কিছু ঐতিহাসিকের মতে, যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, “আপনার সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী কে হবেন?” তিনি নাকি উত্তর দিয়েছিলেন—
“সবথেকে যোগ্য ব্যক্তি” বা “সবথেকে শক্তিশালী” (To the strongest)।

এছাড়া, তাঁর সেনাপতিরা যখন জানতে চান, “আপনি এত অল্প বয়সে কেন মারা যাচ্ছেন?” তখন তিনি দুঃখের সঙ্গে বলেছিলেন—
“আমি আমার জীবনকে যুদ্ধ ও জয়লাভের পিছনে ব্যয় করেছি, কিন্তু প্রকৃত সুখ কোথায় তা খুঁজে পাইনি।”

আলেকজান্ডারের মৃত্যুর কারণ:

তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন, তিনি টাইফয়েড বা ম্যালেরিয়ার কারণে মারা যান, আবার কেউ মনে করেন, তাকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

উপসংহার:

আলেকজান্ডার ছিলেন এক মহান সেনাপতি ও শাসক, যিনি বিশাল সাম্রাজ্য জয় করেছিলেন। তবে তাঁর শেষ কথাগুলো আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—শক্তি, সম্পদ, খ্যাতি সবই ক্ষণস্থায়ী। সত্যিকারের মূল্যবান হলো মানুষের কর্ম ও আদর্শ। মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ ইচ্ছাগুলো আমাদের জীবনের প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করতে শেখায়—পার্থিব সম্পদ নয়, বরং ন্যায়, জ্ঞান ও মানবতার জন্য কাজ করাই আমাদের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা