ডেস্ক রিপোর্ট ::
ওজন কমানো অনেকের জন্যই কঠিন বলে মনে হয়, কিন্তু সঠিক কৌশল অবলম্বন করলে এটি সহজ এবং উপভোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
অনেকেই ভাবেন ওজন কমাতে হলে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যায়াম করতে হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সারাদিন ছোট ছোট নড়াচড়া ও মাইক্রো এক্সারসাইজ করলে অনেক ক্যালোরি বার্ন হয়। যেমন—
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে ওঠানামা করা
চেয়ারে বসে থাকলেও মাঝে মাঝে শরীর টানটান করা
মোবাইলে কথা বলার সময় হেঁটে কথা বলা
এগুলো খুবই ছোট ব্যাপার মনে হলেও দিনে অনেক ক্যালোরি বার্ন করে।
বেশিরভাগ মানুষই গভীর শ্বাস নেওয়ার গুরুত্ব বোঝেন না। কিন্তু জাপানের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৫-১০ মিনিট গভীর শ্বাস নিলে শরীরের মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায় এবং ক্যালোরি বার্ন হয়। পদ্ধতিটি খুবই সহজ—
গভীর শ্বাস নিন (৪ সেকেন্ড)
৭ সেকেন্ড ধরে রাখুন
ধীরে ধীরে ৮ সেকেন্ডে ছাড়ুন
এটি দিনে ১০-১৫ বার করলে ওজন কমতে শুরু করবে।
ঠান্ডা পানি শরীরের ফ্যাট বার্নিং প্রসেসকে দ্রুত করে। আপনি নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে এটি ব্যবহার করতে পারেন—
সকালে ঘুম থেকে উঠে বরফ ঠান্ডা পানি পান করুন (১ গ্লাস)
গোসলের শেষ ৩০ সেকেন্ড ঠান্ডা পানিতে করুন
মাঝে মাঝে পায়ে বা মুখে ঠান্ডা পানির স্পর্শ দিন
এতে শরীর তাপমাত্রা ঠিক রাখার জন্য অতিরিক্ত ক্যালোরি বার্ন করে।
কিছু নির্দিষ্ট গন্ধ ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। পেপারমিন্ট, ভ্যানিলা, এবং আপেলের সুগন্ধ ক্ষুধা কমিয়ে দেয়। যখন ক্ষুধা লাগবে, তখন এই গন্ধযুক্ত কিছু শুঁকুন। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি খাওয়ার প্রবণতা কমায়।
সবাই জানে গ্রিন টি ওজন কমাতে সাহায্য করে, কিন্তু আরো কার্যকর একটি কৌশল হলো খাবারের আগে গরম পানি বা লেবু পানি খাওয়া। এতে—
খিদে কমে যায়
হজম শক্তি বাড়ে
শরীরের ফ্যাট গলতে শুরু করে
বিশেষ করে সকালে এক গ্লাস উষ্ণ লেবু পানি খেলে সারাদিন কম খেতে ইচ্ছে করবে।
প্রচলিত হাঁটার পাশাপাশি কিছু পরিবর্তন আনুন—
খাবার খাওয়ার পর ১০-১৫ মিনিট ধীরগতিতে হাঁটুন
মাটির পরিবর্তে অসমান জায়গায় হাঁটার চেষ্টা করুন (যেমন— বালু বা ঢালু রাস্তা)
হাঁটার সময় মাঝে মাঝে স্পিড বাড়িয়ে দিন
এতে হার্টবিট বেড়ে যায়, যা দ্রুত ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে।
ওজন কমানো মানেই শুধু না খাওয়া বা কঠিন ব্যায়াম করা নয়। বরং দৈনন্দিন কিছু সহজ ও ইউনিক অভ্যাস গ্রহণ করলেই এটি সহজ হয়ে যায়। এই ব্লগে উল্লেখিত কৌশলগুলো অনুসরণ করলে ধীরে ধীরে ওজন কমতে শুরু করবে, এবং আপনি সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবেন। নিয়মিত এই অভ্যাসগুলো চালিয়ে যান, ফলাফল অবশ্যই পাবেন!
Leave a Reply