ডেস্ক নিউজ ::
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এবং সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহেল আহমদের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিকেলে সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থানে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সিলেট নগরের পাঠানটুলা এলাকায় আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাসভবনে শতাধিক তরুণ-যুবক মোটরসাইকেলে এসে হামলা চালায়। তারা বাসায় ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং কিছু জিনিসপত্র লুট করে। বাসাটিতে সাবেক মেয়রের পরিবারের কেউ না থাকলেও দুইজন তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন, যাদের জিম্মি করে হামলাকারীরা ভাঙচুর চালায়।
একই সময়ে, নগরের শুভেচ্ছা আবাসিক এলাকায় শফিউল আলম চৌধুরীর বাসভবন এবং মেজরটিলা এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা রুহেল আহমদের বাসায়ও হামলার ঘটনা ঘটে। শফিউল আলমের বাসায় হামলার সময় তার মা ও বোন ভেতরে ছিলেন, যা আতঙ্ক ছড়ায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হামলাকারীরা আনোয়ারুজ্জামানের বাসার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিকস ভাঙচুর করেছে। সিসি ক্যামেরা, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এদিন সকালে নগরের ধোপাদিঘীরপাড় এলাকায় ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি মিছিল বের হয়, যেখানে আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের ছবি ছিল এবং তার নামে স্লোগান দেওয়া হয়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দুপুরের পর থেকে বিএনপি কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং বিকেলে হামলার ঘটনা ঘটে।
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস দাবি করেছেন, এই হামলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলাফল এবং তাদের দলের কেউ এই হামলায় জড়িত নয়। তিনি বলেন, ‘দেশকে অস্থিতিশীল করতে তারা নিজেরাই ষড়যন্ত্র করছে।’
এ বিষয়ে মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, হামলার তদন্ত চলছে এবং কারা এই ঘটনার পেছনে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, ‘বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা এই হামলা চালিয়েছে বলে শুনেছি, তবে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত চলছে।’
এ ঘটনার আগে গত ৫ আগস্ট একই বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে ভবনের ভেতরের জিনিসপত্র ভাঙচুর ও কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।
বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলার ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
Leave a Reply