ইউটিউব বনাম ফেসবুক: কোথায় ইনকাম বেশি?

ডেস্ক রিপোর্ট :;

বর্তমান যুগে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে ইউটিউব ও ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় আয়ের উৎস। অনেকেই ভাবেন, কোন প্ল্যাটফর্ম থেকে বেশি আয় করা সম্ভব? ইউটিউব না ফেসবুক? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের ওপর, যেমন— মনিটাইজেশন অপশন, অডিয়েন্সের ধরন, বিজ্ঞাপন রাজস্ব ভাগাভাগি, কন্টেন্টের ধরন ইত্যাদি। এই ব্লগে আমরা ইউটিউব ও ফেসবুকের আয়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করব।

ইউটিউবে ইনকাম কেমন?

ইউটিউব গুগলের মালিকানাধীন একটি ভিডিও-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মূলত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করা যায়। এখানে ইনকামের মূল উপায়গুলো হলো:

1. ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম (YPP):

ইউটিউবে মনিটাইজেশন চালু করতে হলে ১,০০০ সাবস্ক্রাইবার ও ৪,০০০ ঘণ্টা ওয়াচ টাইম বা ১০ মিলিয়ন শর্টস ভিউ দরকার।

মনিটাইজেশন চালু হলে ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখানো হয় এবং সেখান থেকে ইনকাম আসে।

2. সিপিএম ও আরপিএম:

ইউটিউবে প্রতি ১,০০০ ভিউতে কত টাকা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে CPM (Cost Per Mille) ও RPM (Revenue Per Mille)-এর ওপর।

CPM বেশি হলে বিজ্ঞাপনদাতারা বেশি টাকা দেয়, তবে ইউটিউব ৫৫% ক্রিয়েটরদের দেয় এবং ৪৫% নিজে রেখে দেয়।

3. অন্যান্য ইনকাম:

চ্যানেল মেম্বারশিপ

স্পন্সরশিপ

সুপার চ্যাট

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

ফেসবুকে ইনকাম কেমন?

ফেসবুকের ইনকাম ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও এটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এখানে ইনকামের প্রধান উপায় হলো:

1. ইন-স্ট্রিম অ্যাডস:

৩ মিনিট বা তার বেশি দৈর্ঘ্যের ভিডিওতে ইন-স্ট্রিম অ্যাডস যোগ করা যায়।

ফেসবুকের ইনকামের হার ইউটিউবের তুলনায় কম, কারণ ফেসবুক ৫৫% রেখে দেয় এবং ৪৫% ক্রিয়েটরদের দেয় (উল্টো ইউটিউবের তুলনায়)।

2. রিলস মনিটাইজেশন:

বর্তমানে রিলস থেকে আয় করা সম্ভব, তবে এতে ইনকামের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।

রিলস প্লে বোনাস প্রোগ্রামের মাধ্যমে কিছু ক্রিয়েটর এককালীন ইনসেনটিভ পেতে পারেন।

3. অন্যান্য ইনকাম:

স্টারস (লাইভ স্ট্রিমিংয়ে গিফট)

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

ব্র্যান্ড স্পন্সরশিপ

সাবস্ক্রিপশন

ফেসবুক বনাম ইউটিউব: তুলনামূলক বিশ্লেষণ

তাহলে কোথায় ইনকাম বেশি?

দীর্ঘমেয়াদে ইউটিউব বেশি লাভজনক, কারণ এর ইনকাম স্ট্রাকচার ও বিজ্ঞাপনী রাজস্ব বেশি।

ফেসবুক তাৎক্ষণিক ইনকামের জন্য ভালো, বিশেষ করে ভাইরাল কন্টেন্ট ও রিলসের জন্য।

যারা দ্রুত টাকা কামাতে চান, তারা ফেসবুকে মনোযোগ দিতে পারেন।

যারা দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার গড়তে চান, তারা ইউটিউবে বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন।
তবে সেরা ফলাফল পেতে হলে দুই প্ল্যাটফর্ম একসঙ্গে ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। ইউটিউব দীর্ঘমেয়াদে আয়ের নিশ্চয়তা দেয়, আর ফেসবুক তাৎক্ষণিক ইনকামের সুযোগ সৃষ্টি করে। তাই সঠিক কৌশল প্রয়োগ করলে দুই প্ল্যাটফর্ম থেকেই ভালো আয় করা সম্ভব!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা