রাতুল ছোটবেলা থেকেই খুব দুরন্ত ছিল। পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলা ও দুষ্টুমিতেই তার মনোযোগ ছিল বেশী। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলতেন, “এই ছেলে জীবনে কিছু করতে পারবে না!”

কিন্তু রাতুলের দাদু ছিলেন এক বিচক্ষণ মানুষ। তিনি বলতেন, “নামের দাম অনেক বড় জিনিস। মানুষ তার কাজ দিয়ে নিজের নামের মূল্য বাড়ায় বা কমায়।”

একদিন স্কুলে এক পরীক্ষায় সবাই দেখল, রাতুল সবার আগে খাতা জমা দিয়ে দিল! সবাই অবাক। শিক্ষক সন্দেহ করে খাতা পরীক্ষা করলেন। অবিশ্বাস্যভাবে রাতুল সব উত্তর ঠিক লিখেছে!

সেদিন থেকে সবাই রাতুলকে অন্য চোখে দেখতে শুরু করল। কিন্তু এর পেছনে ছিল এক গোপন কাহিনি।

কয়েক মাস আগে, রাতুলের এক দুষ্টুমি ধরা পড়েছিল। স্কুলের অধ্যক্ষ তার বাবাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। বাবা খুব লজ্জা পেয়েছিলেন এবং রাতে তাকে বলেছিলেন, “আমি আমার সারা জীবনের সঞ্চিত সম্মান দিয়ে তোমাকে বড় করছি, যদি তুমি ভুল পথে যাও, তবে আমার নামটাই খারাপ হবে।”

বাবার সেই কথা রাতুলের মনে গেঁথে গিয়েছিল। সেদিনই সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, “আমি আমার বাবার নামের মূল্য কমাবো না, বরং বাড়াবো!”

তারপর থেকেই সে নিজের জীবন বদলাতে শুরু করল। পড়াশোনায় মন দিল, দায়িত্বশীল হলো, এবং কয়েক বছরের মধ্যে সবাই তাকে শ্রদ্ধা করতে শুরু করল।

শেষ পর্যন্ত, রাতুল বড় হয়ে একজন সৎ ও সফল ব্যবসায়ী হলো। মানুষ তাকে সম্মান করে ডাকত, একজন বিশ্বস্ত মানুষ।

নাম শুধু একটা শব্দ নয়, এটা বিশ্বাস ও সম্মানের প্রতীক। নিজের কাজ দিয়ে নামের মূল্য বাড়ানোই প্রকৃত সাফল্য!

নাম শুধু একটা শব্দ নয়,বিশ্বাস ও সম্মানের প্রতীক

ফেসবুকে আমরা