-
- জাতীয়
- আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস: হৃদয়ের অনুভূতির এক বিশেষ উৎসব
- আপডেট টাইম : February, 14, 2025, 4:11 pm
- 22 বার
ষ্টাফরিপোর্টার::
ভালোবাসা এমন একটি অনুভূতি, যা মানুষকে সবচেয়ে বেশি সংযুক্ত করে এবং মানবজীবনকে অর্থবহ করে তোলে। আর এই ভালোবাসাকে উদযাপন করার জন্য প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় ভালোবাসা দিবস, যা ইংরেজিতে Valentine’s Day নামে পরিচিত। এটি কেবল প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বন্ধুত্ব, পারিবারিক সম্পর্ক ও মানবিক ভালোবাসাকেও তুলে ধরে।
ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস বেশ পুরনো। এটির সূত্রপাত সম্পর্কে কয়েকটি জনপ্রিয় কাহিনি রয়েছে।
ভালোবাসা দিবসের নামকরণ হয়েছে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে একজন খ্রিস্টান পুরোহিতের নামে। রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস বিশ্বাস করতেন, অবিবাহিত সৈনিকেরা যুদ্ধক্ষেত্রে বেশি মনোযোগী হয়। তাই তিনি তরুণদের বিয়ে নিষিদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু সেন্ট ভ্যালেন্টাইন এই আদেশ উপেক্ষা করে প্রেমিক-প্রেমিকাদের গোপনে বিয়ে পড়াতেন। এজন্য তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তার আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনটিকে ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
রোমান সাম্রাজ্যে ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি পালিত লুপারকালিয়া উৎসব ছিল প্রজনন ও উর্বরতার প্রতীক। অনেক গবেষক মনে করেন, এই প্রাচীন উৎসবের আধুনিক সংস্করণই হলো ভালোবাসা দিবস।
বর্তমানে ভালোবাসা দিবস একটি আন্তর্জাতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে এটি বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপিত হয়, যেখানে উপহার বিনিময়, কার্ড পাঠানো, বিশেষ ডিনার ও ভালোবাসার বার্তা আদান-প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশেও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দিনটির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এদিন—
প্রেমিক-প্রেমিকারা একে অপরকে ফুল, চকলেট ও উপহার দেন। বন্ধুরা একসঙ্গে সময় কাটান এবং পার্টি করেন। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসাময় বার্তা ও ছবি শেয়ার করেন।
বিভিন্ন ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় থাকে বিশেষ আয়োজন।
কেউ কেউ মনে করেন, ভালোবাসা দিবস শুধুই প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, কিন্তু আসলে এটি সকল সম্পর্কের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। এটি বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানদের ভালোবাসা, ভাই-বোনের বন্ধন, বন্ধুদের প্রতি মমতা এবং সামগ্রিকভাবে মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের দিন হতে পারে।
ভালোবাসা প্রকাশের কিছু সুন্দর উপায়:
পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটানো। সমাজের অসহায় মানুষদের সাহায্য করা। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে গাছ লাগানো। প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করা।
বাংলাদেশে একসময় ভালোবাসা দিবস উদযাপনের প্রচলন ছিল না। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশে প্রথমবার ভালোবাসা দিবস উদযাপনের প্রবণতা শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে অনেকেই মনে করেন, আমাদের নিজস্ব পহেলা ফাল্গুন (১৩ ফেব্রুয়ারি) এবং নববর্ষের দিনগুলোও ভালোবাসা প্রকাশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
ভালোবাসা শুধুমাত্র একদিনের জন্য নয়, এটি প্রতিদিনের অনুভূতি। ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ হলো একে অপরকে সম্মান করা, যত্ন নেওয়া এবং সহমর্মী হওয়া। তাই ভালোবাসা দিবস উদযাপন শুধু উপহার বা ফুলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে, সবার প্রতি ভালোবাসা ও মানবিকতা ছড়িয়ে দেই।
শুভ ভালোবাসা দিবস! ❤️❤️
এ জাতীয় আরো খবর..
Leave a Reply