তীব্র শীতে কাঁপছে নবীগঞ্জ উপজেলা, ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত

ডেস্ক রিপোর্ট :: জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ক্রমেই কমতে থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। সোমবার (৭ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হিমেল হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ, ফলে সকাল পর্যন্ত স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ভোর থেকে দুপুরের আগ পর্যন্ত পুরো উপজেলা ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে। কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে। কুয়াশার কারণে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। বিশেষ করে সকালের দিকে যানবাহন চালক ও পথচারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিন এমন শীতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে করে শীতের তীব্রতা আরও অনুভূত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রচণ্ড শীতে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূল পরিবারগুলো। শীতজনিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শীতের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডার কারণে বাজার-হাটে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা নিরাশ হয়ে সন্ধ্যার পরই দোকানপাট গুটিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
এ অবস্থায় আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া, গরম কাপড় ব্যবহার এবং ঠান্ডাজনিত উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শীতের এই দুর্দশায় দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে—এমন আশায় দিন গুনছে উপজেলার সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা