নিজস্ব প্রতিনিধি::
আজ ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব, প্রাক্তন চেয়ারম্যান, শিক্ষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও খ্যাতিমান চিকিৎসক ডা. কুটিশ্বর দাশের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯২৪ সালের ১ জানুয়ারি অবিভক্ত ভারতের আসাম প্রদেশের সিলেট জেলার নবীগঞ্জ থানার মুক্তাহার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক বাবু ভগবান দাশ এবং মাতা সুরধনী দাশ। তাঁর পরিবার, যা “বাবুরবাড়ী” নামে খ্যাত, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খ্যাতিতে সমৃদ্ধ ছিল।
কুটিশ্বর দাশ নবীগঞ্জ দরবার পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে নবীগঞ্জ জে.কে উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৪৩ সালে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে এন্ট্রাস এবং ১৯৪৫ সালে হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, সজ্জন, সংস্কৃতমনা ও অহিংসাবাদী। সততা, পরোপকার, দেশপ্রেম, সুদক্ষ বিচারবুদ্ধি ও মানবতাবোধ ছিল তাঁর চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
১৯৫১ সালে শিক্ষকতার মহান পেশাকে বেছে নিয়ে তিনি নবীগঞ্জ জে.কে হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর প্রজ্ঞা ও মেধার কারণে তিনি শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত প্রিয় হয়ে ওঠেন। অনেক গরিব ও মেধাবী ছাত্রদের নিজস্ব অর্থায়নে লেখাপড়া করিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করেন। তবে ১৯৫৪ সালে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত হয়ে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন।
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দী-মুজিবের নেতৃত্বে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক কাজ করেন। ১৯৬০ সালে বিডি মেম্বার এবং ১৯৬৭ সালে করগাঁও ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শরনার্থীদের খাদ্য, ঔষধ ও মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য তিনি তৎপর ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের রিক্রুটমেন্টে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তিনি নিজেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। দেশ স্বাধীন হলে তিনি এলাকায় ফিরে যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন।
একজন কিংবদন্তি হোমিওপ্যাথ চিকিৎসক হিসেবে তিনি আজীবন বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসা দিয়ে গেছেন। পাশাপাশি, তিনি একজন লেখক, কবি ও গীতিকার ছিলেন। তাঁর লেখা লোকগীতি ও পদাবলী আজও মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।
১৯৯৫ সালের ৪ এপ্রিল তিনি পরলোক গমন করেন। তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে ২০১১ সালে গঠিত হয় ‘কুটিশ্বর দাশ স্মৃতি সাহিত্য পরিষদ’। ২০১৫ সালে তাঁর ২০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রকাশিত হয় ‘স্মরণাঞ্জলি’ নামক স্মারকগ্রন্থ। সংগঠনের সহ-সভাপতি প্রভাস চন্দ্র দাশ টিটু ও সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত দাশ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে স্মারকগ্রন্থের পরিবর্ধিত সংস্করণ প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
ডা. কুটিশ্বর দাশ ছিলেন একজন সত্যিকারের মানবতাবাদী, সমাজসংস্কারক এবং নির্লোভ নেতা। তাঁর কর্ম ও আদর্শ আজও মানুষের হৃদয়ে অম্লান হয়ে রয়েছে।
আমি নিউজটি সংক্ষেপে ও গঠনমূলকভাবে সাজিয়ে দিয়েছি। কোনো সংশোধন বা সংযোজন চাইলে জানাবেন!