কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে দাফন করা হয়েছে। রোববার সকাল ১১টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকায় নিজ বাসার পাশের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অপ্রতিমের সহপাঠী, স্বজন ও স্থানীয়রা অংশ নেন।
১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
দাফন শেষে কান্নাজড়িত কণ্ঠে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার আর নতুন করে কিছু বলার নেই। আমি শুধু আমার সন্তান হত্যার উপযুক্ত বিচার চাই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এখনো আমার পূর্ণ আস্থা আছে।’
তিনি আরও বলেন, সামান্য একটি আইফোনের জন্য তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এ বিষয়টি তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। ১৩ বছরের নিষ্পাপ সন্তানের কী অপরাধ ছিল, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা।
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে তল্লাশি চালায়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের পাশের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় শোকের পাশাপাশি তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জোরালো হয়েছে।
Leave a Reply