ভালবাসার শেষ ঠিকানা

ভালবাসার শেষ ঠিকানা:

তিথি আর আদিত্যর গল্পটা অন্য সবার মতো সাধারণ ছিল না। ওরা দুজন দুই জগতের মানুষ। তিথি ছিল চঞ্চল, হাসিখুশি আর স্বাধীনচেতা মেয়ে, আর আদিত্য ছিল শান্ত, কম কথার, আর নিজের দায়িত্বের প্রতি ভীষণ যত্নবান।

ওদের পরিচয় হয় একটা বৃষ্টির দিনে, এক পুরনো বইয়ের দোকানে। তিথি একটা পুরনো কবিতার বই খুঁজছিল, আর আদিত্য এসে দাঁড়িয়েছিল ঠিক পাশেই। একসময় ওদের চোখাচোখি হয়, আর তখনই শুরু হয় এক অনন্য গল্পের সূচনা।

দিন যেতে থাকে, কথা বাড়তে থাকে। তিথি বুঝতে পারে, আদিত্যর চোখে এক অদ্ভুত মায়া আছে, যা সে আগে কখনো দেখেনি। আর আদিত্য খেয়াল করে, তিথির হাসির মধ্যে এক অদ্ভুত উষ্ণতা আছে, যা তাকে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচতে শেখায়।

তবে, ভালোবাসার পথ সবসময় সহজ হয় না। তিথির পরিবার চায় সে বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা করুক, আর আদিত্য চায় তার ছোট শহরেই থেকে নিজের স্বপ্ন গড়ে তুলতে। দূরত্বের ভয় ওদের হৃদয়ে দোলা দেয়, কিন্তু তিথি প্রতিশ্রুতি দেয়—
“যেখানেই থাকি, হৃদয়ের ঠিকানা একটাই, আর সেটা তুমিই, আদিত্য।”

তিথি বিদেশে যায়, চিঠিতে, ফোনে, আর হাজারো স্মৃতির মাঝে ওরা একে অপরকে আগলে রাখে। চার বছর পর, এক ঝুম বৃষ্টির দিনে তিথি ফিরে আসে, সেই পুরনো বইয়ের দোকানের সামনে। আদিত্য অপেক্ষায় ছিল, হাতে একটা পুরনো কবিতার বই নিয়ে।

তিথি চোখের জল আটকাতে না পেরে বলে, “চার বছর আগে আমি এখানে একটা কবিতার বই খুঁজছিলাম, আর পেয়েছিলাম আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর কবিতাটা—তুমি!”

সেদিন বৃষ্টি ভিজেছিল, কিন্তু তার চেয়ে বেশি ভিজেছিল দুটো হৃদয়, ভালোবাসার আনন্দে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা