নবীগঞ্জের ইনাতগঞ্জের শাশুড়ি হ’ত্যা মামলায় প্রধান আ’সামীসহ ৩ জন নারায়নগঞ্জ থেকে গ্রে’ফতার

নবীগঞ্জ ( হবিগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা :হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বহুল আলোচিত শাশুড়ি হত্যা মামলার প্রধান আসামী সুবেল মিয়াসহ আরও ২ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার রাধানগর গ্রামের মৃত ছায়েদ আলীর পুত্র সুবেল মিয়া (২৭), একই গ্রামের নসামসুদ্দিনের পুত্র আফজাল হোসেন (২৬) এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলার মীর্জাপুর গ্রামের নুরুল আমীনের পুত্র জোবায়ের হোসেন (২৬)।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিরা পলাতক ছিল এবং বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছিল। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপরতা জোরদার করে।
অবশেষে ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নেতৃত্বে প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুল কাদির গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, নিহত ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৫৩) নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লামনীরপাড় গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মৃত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং ছেলে রফিকুল ইসলাম চৌধুরী প্রবাসে (দুবাই) অবস্থান করছেন। তিনি বাড়িতে পুত্রবধূ তামান্না আক্তারের সঙ্গে বসবাস করতেন।
গত ১৬ মার্চ সকালে নিজ বাড়ি থেকে ফেরদৌসীর হাত-পা বাঁধা এবং মুখে টেপ লাগানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে,ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুত্রবধূ তামান্না আক্তার (২২)-কে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
প্রাথমিক জবানবন্দিতে জানা যায়, তামান্নার সঙ্গে সুনামগঞ্জের এক যুবকের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার রাতে ওই যুবকসহ আরও ২-৩ জন বাড়িতে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের চেষ্টা চালায়। এ সময় ফেরদৌসী জেগে উঠলে তাকে হাত-পা বেঁধে এবং মুখে টেপ লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে পুত্রবধূ, তার কথিত প্রেমিকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা