চাঁদের হাসি হাসপাতালে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃ’ত্যু, চিকিৎসায় অ’বহেলার অ’ভিযোগ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, হবিগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচার-এর সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুকে ঘিরে চাঁদের হাসি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকার ওই হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্বজনদের অভিযোগ, বুকে ব্যথা নিয়ে গোলাম মোস্তফা রফিক হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে পায়ে হেঁটে চাঁদের হাসি হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসক ডা. সুলেমান মিয়ার পরামর্শে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরে হাসপাতালের ইন্টার্ন আল আমিন একটি ইনজেকশন দিতে গেলে তিনি আপত্তি জানান। স্বজনদের দাবি, ওই ইনজেকশন দিলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে বলে তিনি অন্য ইনজেকশন দেওয়ার কথা বলেন। তবে তার আপত্তি উপেক্ষা করে ইনজেকশনটি দেওয়া হয়। এর পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন বলে স্বজনদের অভিযোগ।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, সাংবাদিক ও বিএনপি নেতাকর্মীরা হাসপাতালে জড়ো হন। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছ, পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ, জেলা প্রশাসক ড. সরফরাজ, সিভিল সার্জন রত্নদ্বীপ বিশ্বাস, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আমিনুল হকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হাসপাতালে উপস্থিত হন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতালের ডা. সুলেমান মিয়াসহ কয়েকজন চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফ হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে হাসপাতালটি কার্যত স্টাফশূন্য হয়ে পড়ে। আতঙ্কে কয়েকজন রোগীও হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এর মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। হাসপাতালের জেনারেটরও চালু করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সদর থানার ওসি জাহিদুল হকের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ হাসপাতালের চারপাশে অবস্থান নেয়। পরে রাত ১০টার দিকে হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছসহ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে গোলাম মোস্তফা রফিকের মরদেহ বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেছেন উত্তেজিত জনতা।

মৃত্যুকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি হবিগঞ্জ শহরের রাজনগর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে হবিগঞ্জের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা ও সামাজিক-রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এই প্রবীণ ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

মরহুমের জানাজার নামাজ মঙ্গলবার বেলা ২টায় হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজায় পানি সম্পদ মন্ত্রীসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা