নবীগঞ্জের কুর্শি পাক পাঞ্জাতন (হোসাইনী) মোকামে দুই শতাব্দীর ঐতিহ্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র আশুরা

নবীগঞ্জ ( হবিগঞ্জ)থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা :: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের কুর্শি গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কুর্শি পাক পাঞ্জাতন (হোসাইনী) মোকামে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শোকাবহ পরিবেশে পবিত্র আশুরা পালন করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন আয়োজকরা।
ইসলামের ইতিহাসে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণে এবং হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ, সত্য, ন্যায় ও মানবতার চেতনা ধারণ করে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ১ থেকে ১০ মহররম পর্যন্ত নানা ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জারি ও মার্সিয়া পাঠ, মাতম, নফল রোজা পালন, তাজিয়া নির্মাণ, তাজিয়া মিছিল, মিলাদ, দোয়া মাহফিল এবং ধর্মীয় আলোচনা।
১০ মহররম পবিত্র আশুরার দিন জারি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল কর্মসূচি শেষ হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনা মিয়ার বাড়িতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য গরু জবাই করে রান্না করা খাবার (শিরনি) পরিবেশন করা হয়।
 আয়োজকদের ভাষ্য, এই গণভোজের ঐতিহ্যও দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং প্রতিবছর হাজারো মানুষ এতে অংশ নেন।
আশুরা উপলক্ষে সকাল থেকেই কুর্শি পাক পাঞ্জাতন (হোসাইনী) মোকামে নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের উপজেলা থেকে অসংখ্য ভক্ত, দর্শনার্থী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম ঘটে। পুরো এলাকা উৎসবমুখর হলেও ধর্মীয় শৃঙ্খলা ও শোকের আবহ বজায় থাকে।
অনুষ্ঠান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নবীগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মোকাম পরিদর্শন করেন এবং আয়োজকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কারবালার শিক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকার আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া এবং সম্প্রীতির বার্তা প্রচারের লক্ষ্যেই এই ঐতিহ্যবাহী আশুরার অনুষ্ঠান প্রতি বছর আয়োজন করা হয়ে থাকে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও শতবর্ষের এই ধর্মীয় ঐতিহ্য একইভাবে সংরক্ষিত ও অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা