পল্লবীতে শি’শু ধ’র্ষণ ও হ’ত্যা।। সোহেল-স্বপ্নার মৃ’ত্যুদ’ণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট::

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধ’র্ষণের পর হ’ত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। ধ’র্ষণ ও হ’ত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের দো’ষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ সা’জা দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১১টা ৫ মিনিট থেকে ১১টা ৩৮ মিনিট পর্যন্ত বিচারক রায়ের বিভিন্ন অংশ পাঠ করেন। রায় ঘোষণার পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কা’ন্নায় ভে’ঙে পড়েন সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার।

এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে দুই আসামিকে আদালতে আনা হয় এবং পরে তাদের এজলাসে তোলা হয়।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।

গত বৃহস্পতিবার আসামিদের উপস্থিতিতে রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। হ’ত্যাকা’ণ্ডের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় মামলাটির রায় হলো।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন মামলার বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু। আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কলিমুল্লাহ। এছাড়া ঢাকা মহানগর জজ আদালতের পিপি ওমর ফারুক ফারুকীসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে স্কুলপড়ুয়া শিশুটির ম’রদে’হ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, সেদিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী সোহেল রানা শিশুটিকে হ’ত্যার পর পালিয়ে যান। এ সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বাসার ভেতরেই ছিলেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে।

ঘটনার পর শি’শুটির বাবা পল্লবী থানায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আসামি করে হ’ত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হ’ত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান, পাঁচ দিনের তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সেখানে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়।

আলোচিত এই মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে অভিযোগপত্র দাখিলের দিনই মামলাটি বিচারের জন্য শিশু স’হিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। গত ১ জুন আসামিদের বি’রুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এরপর একদিনেই ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। বুধবার আত্মপক্ষ সমর্থন এবং বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা