খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জে ভয়াবহ বন্যা, প্লাবিত অন্তত ১০ গ্রাম

ডেস্ক রিপোর্ট ::টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলে মুহূর্তেই লোকালয়ে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। এতে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
পানির তীব্র স্রোতে নিম্নাঞ্চলের অসংখ্য বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। আকস্মিকভাবে ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরিবারের ঘরে কোমরসমান পানি ওঠায় তারা গবাদিপশু, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আশপাশের গ্রামগুলোতে দ্রুত বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছেন।
বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহেরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে মাইকিং করে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে ও আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বন্যার পানিতে হবিগঞ্জ–মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে সড়কটিতে সম্পূর্ণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সঙ্গে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী দ্রুত ভেঙে যাওয়া বাঁধ সংস্কার, নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পানি বাড়তে থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা