ডেস্ক রিপোর্ট : সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রাজধানীর বারিধারায় ফ্ল্যাট বিক্রির নামে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এই নারীর জামিন আবেদন নাকচ করে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ এ আদেশ দেন।এর আগে গত ২০ মে বিদিশার অনুপস্থিতিতেই মামলাটির রায় ঘোষণা করেন আদালত। ওই রায়ে প্রতারণার দায়ে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলেও রায়ে উল্লেখ ছিল। রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই মঙ্গলবার রাতে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা-পুলিশ।বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ বিদিশাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানায়। শুনানির সময় তাকে এজলাসে তোলা হয়নি; বরং আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিতে বিদিশার আইনজীবী আতিকুর রহমান উচ্চ আদালতে আপিল করার শর্তে বিশেষ বিবেচনায় জামিনের প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, একসময় এই মামলায় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ছিল, যা পরে প্রত্যাহার করা হয়। তার মক্কেলের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম শেষ করে রায় দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি আদালতকে জানান।অপরদিকে, জামিনের এই আবেদনের বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান এবং রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম। আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী যুক্তি দেখান, প্রায় আড়াই দশকের পুরোনো এই মামলায় বিদিশা আদালতের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন। সমন ও কার্যক্রমের কথা অবগত হয়েও তিনি দিনের পর দিন আদালতে অনুপস্থিত থেকেছেন বলে তাদের দাবি। দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনার পর বিচারক জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলাটি করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার। এজাহারে বাদী জানান, ফ্ল্যাট কেনার সূত্রে বিদিশার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা তাকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখিয়ে ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির প্রস্তাব দেন। একই বছরের ১০ জুলাই বনানীর রজনীগন্ধা কার্যালয়ে ডেকে তার মনোনীত প্রতিনিধি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার নেন বিদিশা। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের পর তাদের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন সাপেক্ষে বাকি টাকা পরিশোধ করে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল বিদিশার। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তর না করে তিনি কালক্ষেপণ করতে থাকেন বলে অভিযোগ। পরে টাকা ফেরতের দাবিতে চাপ দিলে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদিশা বাদীকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেন। তবে ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেই চেক বাউন্স হয়। এরপর ফ্ল্যাট কিংবা টাকা—কোনোটিই ফেরত না দিয়ে উল্টো সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বিদিশা বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
Leave a Reply