ডেস্ক রিপোর্ট : রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। তাদের বাড়িও একই এলাকায়।
রোববার (২৩ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, হত্যাকাণ্ডের পরও দুই আসামি দীর্ঘ সময় ওই বাড়িতে অবস্থান করেন। সকালে তারা বাসার বাথরুমে গোসল করেন। এরপর ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও শসা খান এবং সেখানে ইয়াবা সেবন করেন।
এর আগে শনিবার রাত ১১টার দিকে মাছুয়াপাড়ার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) ও ১২ বছর বয়সী ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিলেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গেলে পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করেন।
পরে স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে যাওয়ার সময় তাকেও হত্যা করা হয়। মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে প্রার্থী এগিয়ে এলে তাকেও গামছা ও রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর নিচতলায় ঘুমিয়ে থাকা ১২ বছর বয়সী প্রিয়মকেও গলায় কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।
পুলিশ কমিশনার জানান, প্রিয়ম আসামিদের পরিচিত ছিল। সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করত। এ কারণে প্রিয়ম তাদের চিনে ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর দুই যুবক বাড়িতে অবস্থান করে। সকালে প্রথমে সিদ্ধার্থ এবং পরে মুগ্ধ গোসল করেন। এরপর ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও শসা খান। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামতও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফ্রিজে রাখা একটি শসার অর্ধেক অংশও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকার সুযোগে দুই আসামি বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে বেরিয়ে যান। পরে সেগুলো একটি মন্দিরের পেছনের পরিত্যক্ত জায়গায় রেখে দেন। আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখান থেকে আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ধারণা, ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে এবং তদন্ত ভিন্ন দিকে নিতে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে এলোমেলো করা হয়েছিল। সিদ্ধার্থ দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বর্ণের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করায় স্বর্ণ শনাক্ত করার অভিজ্ঞতা তার ছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিআইডি, ডিবিসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
Leave a Reply