ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বৃদ্ধি: ট্যাঙ্কার হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র পাল্টাপাল্টি ও তেলের বাজারে অস্থিরতা

ডেস্ক রিপোর্ট :: তেহরানের পক্ষ থেকে দুবার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগের জেরে মঙ্গলবার ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাঙ্কারগুলোর একটি পরে ডুবে যায়।সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, ওমান উপসাগরে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট চারটি ট্যাঙ্কার এবং খার্গ দ্বীপের কাছে থাকা আরও একটি ট্যাঙ্কার ছিল হামলার লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব ট্যাঙ্কার এমন একটি গোপন নেটওয়ার্কের অংশ, যার মাধ্যমে আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন করা হয়।এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।

জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ভূপাতিত করা হয়েছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে।অন্যদিকে, ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করা দুটি মার্কিন জাহাজ, আটটি তেল ট্যাঙ্কার এবং ১০টি ‘নিয়ম-বহির্ভূত জাহাজে’ হামলা চালানো হয়েছে।সেন্টকম আরও জানায়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হয় এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ‘এম/টি রিয়েস্কো’ নামের ট্যাঙ্কারটি ওমান উপসাগরে ডুবে যায়।এদিকে এ সংঘাতের জেরে এশিয়ার জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ দশমিক ৫৫ ডলারে।মঙ্গলবার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে ৭৩ জন আহত হয়েছেন এবং একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় আগুন লাগে।

হামলার পর কিছু স্থাপনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান যদি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলা চালায় বা হামলার চেষ্টা করে, তবে তাদের ট্যাঙ্কারের মূল্য দিতে হবে।এর আগে হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চালকবিহীন সাবমেরিন আটক করার দাবি তোলে ইরান। তবে সেন্টকম জানিয়েছে, ড্রোনটিতে একদিনেরও বেশি সময় আগে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। তাদের দাবি, এটি ছিল পুরোনো মডেলের একটি যন্ত্র, যাতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য, গোপন সোনার বা রাডার সরঞ্জাম ছিল না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো খবর..

ফেসবুকে আমরা