দেশব্যাপী আলোচিত সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অপর চার আসামিকে অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড এবং তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর ও শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। অপর চার আসামিকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়া এলাকার তাহিদ মিয়ার ছেলে সাইফুর রহমান (২৮)।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাগুনীপাড়ার শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮) এবং সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অর্জুন লস্কর (২৬)।
খালাসপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন রবিউল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান মাসুম, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল এবং মিজবাউল ইসলাম রাজন।
রায় ঘোষণার আগে গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন।
২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে দক্ষিণ সুরমার এক নবদম্পতি সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বেড়াতে গেলে একদল যুবক তাদের জিম্মি করে ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে প্রাইভেটকারের ভেতরে নববিবাহিতা গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। পরে তাদের কাছে থাকা টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও গাড়িও ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর নির্যাতিতার স্বামী শাহপরান (র.) থানায় মামলা দায়ের করেন। দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের সৃষ্টি হওয়া এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শেষে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন, যার মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট।
পরবর্তীতে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ সময় বিচার কার্যক্রম স্থবির থাকার পর পুনরায় শুনানি শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এদিকে, একই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের মামলাও পৃথকভাবে বিচারাধীন রয়েছে।
Leave a Reply